পরীক্ষা না হওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের অর্থ ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যশোর শিক্ষাবোর্ড। ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণ না করায় আংশিক অর্থ ফেরত দেয়া হচ্ছে। ফেরত দেয়া অর্থের পরিমাণ ৮ কোটি ৫২ লাখ ৬৪ হাজার একশ’ ৭০ টাকা হতে পারে।
আগামী রোব অথবা সোমবার এই অর্থ ফেরত দেয়ার বিষয়ে নোটিশ প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্র। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই তথ্য জানান তিনি।
২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা করোনা মহামারির কারণে গ্রহণ করতে পারেনি শিক্ষাবোর্ডগুলো। এ কারণে ফরম পূরণের আংশিক টাকা ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তঃবোর্ড কমিটি। ইতিমধ্যে ঢাকা শিক্ষাবোর্ডে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া এ টাকা বিতরণ শুরু হয়েছে।
আন্তঃশিক্ষাবোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কেবলমাত্র সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিজে অথবা তার কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো শিক্ষকের কাছে নির্দিষ্ট কেন্দ্রের আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার্থীর অর্থের চেক প্রদান করা হবে। কোনো কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হলে আবেদনপত্রে গভর্নিংবডির সভাপতি অথবা জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার প্রতিস্বাক্ষর থাকতে হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রের পক্ষে চেক গ্রহণের পর তাতে কোনো ধরনের ভুলত্রুটি ধরা পড়লে সাত কর্মদিবসের মধ্যে বোর্ডের হিসাব শাখা থেকে সংশোধন করে নিতে হবে বলে সূত্র জানিয়েছে।
গত ৩০ জানুয়ারি এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার মূল্যায়নের ফল প্রকাশের দিন পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের টাকা ফেরত দেয়ার ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।
এনিয়ে আন্তঃবোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কোন বিভাগের পরীক্ষার্থী কত টাকা ফেরত পাবে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন কর্মকর্তারা। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিজ্ঞান বিভাগের একজন নিয়মিত পরীক্ষার্থী সর্বমোট এক হাজার ৬৫ টাকা ফেরত পাবে। এর মধ্যে শিক্ষাবোর্ড দেবে চারশ’ ৮০ টাকা এবং কেন্দ্র দেবে দুশ’ ২৫ টাকা। আটটি বিষয়ের ব্যবহারিকে ৪৫ টাকা করে মোট তিনশ’ ৬০ টাকা ফেরত দেয়া হবে তাদেরকে। মানবিক ও ব্যবসা শিক্ষা শাখার একজন নিয়মিত পরীক্ষার্থী মোট ছয়শ’২৫ টাকা করে পাবে।
এইচএসসির তিনটি বিভাগে মোট ১৩টি বিষয়ে পরীক্ষা গ্রহণ করে শিক্ষাবোর্ডগুলো। ২০২০ সালের এইচএসসির বিজ্ঞান বিভাগের পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফরম পূরণ বাবদ নেয়া হয় দু’ হাজার পাঁচশ’ টাকা করে। এরমধ্যে বোর্ড ফি এক হাজার ছয়শ’ ৯৫ এবং কেন্দ্র ফি ছিল আটশ’ পাঁচ টাকা। এই হিসেবে যশোর শিক্ষাবোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগের ২১ হাজার একশ’ ৪৩ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে গ্রহণ করা হয় পাঁচ কোটি ২৮ লাখ ৫৭ হাজার পাঁচশ’ টাকা। একইভাবে, মানবিক বিভাগের পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেয়া হয় এক হাজার নয়শ’ ৪০ টাকা করে। এরমধ্যে বোর্ড ফি ছিল এক হাজার চারশ’ ৯৫ এবং কেন্দ্র ফি চারশ’ ৪৫ টাকা। এই হিসেবে মানবিকের ৮১ হাজার চারশ’ ৫৪ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে গ্রহণ করা হয় ১৫ কোটি ৮০ লাখ ২০ হাজার সাতশ’ ৬০ টাকা। ব্যবসা শিক্ষা বিভাগের ফিও ছিল এক হাজার নয়শ’ ৪০ টাকা করে। কেন্দ্র ফিও ছিল মানবিকের সমপরিমাণ। সেই হিসেবে ব্যবসা শিক্ষা বিভাগের ১৮ হাজার নয়শ’ ৪১ জন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে তিন কোটি ৬৭ লাখ ৪৫ হাজার পাঁচশ’ ৪০ টাকা গ্রহণ করা হয়। এর বাইরে কোনো পরীক্ষার্থীর অতিরিক্ত বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা থাকলে বাড়তি একশ’ ৪০ টাকা গ্রহণ করার নির্দেশনা দেয় শিক্ষাবোর্ড।
করোনা মহামারির কারণে এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব না হওয়ায় প্রতিটি পত্রের জন্য শিক্ষাবার্ড ৩০ টাকা করে ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে, ১৩টি বিষয়ে প্রত্যেক পরীক্ষার্থীকে মোট তিনশ’ ৯০ টাকা করে ফেরত দেবে যশোর শিক্ষাবোর্ড। এর সাথে বিজ্ঞান বিভাগে নয় বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষার প্রতিটি পত্রে ১০ টাকা করে মোট ৯০ টাকা ফেরত দেয়া হবে। বিজ্ঞান বিভাগের একজন পরীক্ষার্থী শিক্ষাবোর্ড থেকে মোট ফেরত পাবে চারশ’৮০ টাকা।
একইভাবে পরীক্ষা কেন্দ্র ১৩টি বিষয়ে মোট দুশ’ টাকা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে ব্যবহারিক থেকে ২৫ টাকাসহ মোট ফেরত দেবে দুশ’২৫ টাকা। ব্যবহারিকে ৪৫ টাকা করে মোট তিনশ’৬০ টাকা ফেরত পাওয়া যাবে কেন্দ্র থেকে। সব মিলিয়ে বিজ্ঞান বিভাগের একজন পরীক্ষার্থী সর্বমোট এক হাজার ৬৫ টাকা ফেরত পাবে।
মানবিক ও ব্যবসায় শাখা বিভাগের নিয়মিত একজন পরীক্ষার্থীকে ১৩টি বিষয়ে শিক্ষাবোর্ড মোট তিনশ’ ৯০ ও পরীক্ষা কেন্দ্র দুশ’ টাকা করে ফেরত দেবে। এছাড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের ব্যবহারিকের জন্য শিক্ষাবোর্ড থেকে ১০ এবং কেন্দ্র থেকে ২৫ টাকা করে পাবে পরীক্ষার্থীরা। সবমিলিয়ে ছয়শ’ ২৫ টাকা করে পাওয়া যাবে।
২০২০ সালে যশোর শিক্ষাবোর্ড থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দেয়ার জন্যে এক লাখ ২১ হাজার পাঁচশ’ ৩৮ জন পরীক্ষার্থী ফরম পূরণ করে। এসব পরীক্ষার্থীকে সর্বপ্রথম রেজিস্ট্রেশন করতে হয়েছিল। এ জন্যে প্রত্যেক পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে শিক্ষাবোর্ড দুশ’ ৫০ টাকা হারে গ্রহণ করে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরীক্ষা গ্রহণ বাতিল করার পর অভিভাবক, পরীক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহল থেকে ফরমপূরণের অর্থ ফেরত দেয়ার দাবি ওঠে। ফরমপূরণের অর্থ ফেরত দেয়ার বিষয়ে যশোর শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মাধব চন্দ্র রুদ্র বলেন, আগামী রোব অথবা সোমবারের মধ্যে অর্থ ফেরত দেয়ার ব্যাপারে নোটিশ প্রদান করা হবে। সেখানে বিস্তারিত উল্লেখ করা থাকবে।

No comments:
Post a Comment