যশোরে বিএনপির শীর্ষ ৪ নেতার বাড়িতে মধ্যরাতে হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছে। শুক্রবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার পর থেকে আড়াইটা পর্যন্ত এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যুগ্ম-আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন ও আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান খাঁনের বাসভবনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি স্প্রাইট, সেভেনআপ, কোকাকোলার বোতলও ব্যবহার করা হয়েছে।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাসভবনের সিটি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীরা একটি সিলভার কালারের মাইক্রোবাস, ৪-৫টি প্রাইভেটকার এবং ১০টির অধিক মোটরসাইকেল নিয়ে মহড়া দেয়। যার মধ্যে একটি সাদা এবং একটি কালো রঙের প্রাইভেটকার ছিল। তারা মুখে কাপড় বেঁধে এই হামলা শুরু করে। প্রথমে রাত দেড়টার পর ঘোপ পিলু খান সড়কস্থ বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের বাসভবনে হামলা করে।
গেটের বাইরে থেকে বেপরোয়া ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে বাসার জানালার গ্লাসসহ বাসভবনে ব্যাপক ভাঙচুর করে। গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টায় চালায়। ব্যর্থ হয়ে তারা অনবরত ইটপাটকেলের সঙ্গে কাচের স্প্রাইট, সেভেনআপ, কোকাকোলার বোতল ছুড়তে থাকে। তাদের ছোড়া ইটপাটকেল ও ভাঙা কাচের বোতলের টুকরোয় বাসভবনের আঙিনা ভরে যায়। তাদের ছোড়া ইটপাটকেলে আঘাতে পাশের বাড়ির ব্যালকনিতে লাগানো এসিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বেশকিছু সময় ধরে তারা তাণ্ডব চালিয়ে উপশহর বি ব্লকস্থ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর বাসভবনে হামালা চালায়। সন্ত্রাসীরা গেটের বাইরে থেকে ইটপাটকেল ও কাচের বোতল নিক্ষেপ করে বাসার জানালা গ্লাস ভেঙে ফেলে। সেখান থেকে উপশহর ডি ব্লকস্থ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান খাঁনের বাসভবনে গিয়ে হামলা চালায়।
তার বাসার সামনে রাখা মাইক্রোবাস ভাঙচুর করে। গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়।
সবশেষে সন্ত্রাসীরা ধর্মতলা মোড়স্থ জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকনের বাসভবনে গিয়ে হামলা চালায়। তার বাসভবনেও সন্ত্রাসীরা ইটপাটকেল ছুঁড়ে জানালার কাচ ভাংচুর করে। বৈদ্যুতিক মিটারবক্স ভেঙে ফেলে। বাসার গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা চালায়।
সন্ত্রাসীদের এমন তাণ্ডবে বাসার মধ্যে থাকা শিশু থেকে শুরু করে মহিলারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। হামলার প্রতিবাদে শনিবার সকালে নগর বিএনপির ৩ নম্বর ওয়ার্ড শাখার নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিয়ে আওয়ামী সন্ত্রাসী মধ্যরাতে বিএনপি নেতাদের বাড়িতে হামলা ও তাণ্ডব চালিয়েছে। এ নিয়ে ৫ বার করে এই নেতাদের বাড়িতে হামলা চালানো হলো। কিন্তু কোনো ঘটনাই দোষীদের চিহ্নিত করা বা বিচার করতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন।
তারপরও আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমরা মামলা করবো।
এ ব্যাপারে যশোর পুলিশের মুখপাত্র ডিবি ওসি রূপণ কুমার সরকার বলেন, ‘হামলা ভাঙচুরের কোনো অভিযোগ তারা পাননি।’
এদিকে, এই হামলার ঘটনায় শনিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেন জেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দ।
বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিএনপি যখনই দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন, মানবাধিকার, ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠাসহ জনগণের সকল ন্যায্য দাবি এবং অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করে; তখনই সরকার দলীয় সন্ত্রাসীরা জনতার আন্দোলনকে বাঁধাগ্রস্ত করার জন্য এই ধরনের হামলা তাণ্ডব শুরু করে।
ইতিপূর্বেও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা একইভাবে দলের নেতা কর্মীদের বাসভবনে হামলা চালিয়েছে। কিন্তু কোনো ঘটনারই কোনো বিচার হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে হামলার ঘটনা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক নার্গিস বেগম, সদস্য সচিব অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যুগ্ম-আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান খাঁন, মফিকুল হাসান তৃপ্তি, সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ইসহক, জাফর সাদিক ও মুনির আহমেদ সিদ্দকী বাচ্চু প্রমুখ।
No comments:
Post a Comment