যশোরে বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষ, আহত ৫ - Jessore News

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Saturday, August 27, 2022

যশোরে বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষ, আহত ৫


যশোর সদরের রুপদিয়া বাজারে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের ৫ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। এ সময় নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও চেয়ারম্যানে গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। 

শনিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর একটার দিকে ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গুরুতর আহত অবস্থায় বিএনপির ২ নেতা-কর্মীকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।তেল, গ্যাসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও ভোলায় ছাত্রদলের দুই নেতা হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শনিবার বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার কচুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 

সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন-খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সমাবেশ শেষে রূপদিয়া বাজারে বিক্ষোভ মিছিল বের করে নেতৃবৃন্দ। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা একে অন্যদের উদ্দেশ্য করে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। 

বিএনপি নেতারাও নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এই ঘটনায় উভয়পক্ষের ৫ জন নেতা-কর্মী আহত হন। আতঙ্কে রূপদিয়া বাজারে সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।জেলা বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে বলেন, সমাবেশ শেষে তারা শান্তিপূর্ণ মিছিল বের করেন। 

এমন সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা লাঠিসোঁটা দিয়ে রাস্তায় অবস্থান করে। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালালে তারাও প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এদিকে, এই হামলা নিয়ে শনিবার বিকেলে নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজু আহমেদ যশোর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, কর্মসূচির নামে বিএনপি নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নে ভাঙচুর-হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের উপস্থিতিতে এই হামলা চালানো হয়। 

তিনি উপস্থিত থেকে নরেন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদেও হামলা করান। সবমিলিয়ে তারা দুটি গাড়ি, বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল ও চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুর করেছে। এতে করে তাদের অনেক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। শোকের মাসে আন্দোলনের নামে অরাজকতা সৃষ্টি করার জন্যই হামলা করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। 

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা অমিতসহ হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করে মামলা করবেন বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আওয়ামী লীগ ১৪ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে। 

তাদের সঙ্গে প্রশাসন রয়েছে। তাদের সঙ্গে আমার নেতৃত্বে হামলা চলেছে সেটা কোনো পাগলও বিশ্বাস করবে না। তারা আমাদের সঙ্গে রাজনীতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে শুক্রবার রাতে জেলা বিএনপির শীর্ষনেতাদের ওপর হামলা করেছে, আজকের রুপদিয়াতে কর্মসূচিতে হামলা চালিয়েছে। জনগণ এখন রাজপথে নেমে এসেছে। এখন আওয়ামী লীগনেতাদের মাথা নষ্ট হয়ে গেছে। 

সেই কারণে তারা আমাদের ওপর এমন ধরনের অভিযোগ দিচ্ছে। এসব অভিযোগে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। কারণ এর আগেও আমাদের নামে শত শত গায়েবি মামলা দিয়ে আমাদের আটকে রাখা হয়েছিল। আমরা রাজনৈতিকভাবেই এসব মোকাবিলা করবো। যশোর কোতয়ালী মডেল থানার ওসি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘রুপদিয়াতে আইনশৃঙ্খলা এখন স্বাভাবিক। শুনেছি স্থানীয় চেয়ারম্যানের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages