অগ্নিযোদ্ধা গাউসুল আজমের মৃত্যু, মণিরামপুরের বাড়িতে শোকের মাতম - Jessore News

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Sunday, June 12, 2022

অগ্নিযোদ্ধা গাউসুল আজমের মৃত্যু, মণিরামপুরের বাড়িতে শোকের মাতম


চট্টগ্রামের সীতাকু-ে বিএম কনটেইনার ডিপোতে বিস্ফোরণের ঘটনায় আরও এক ফায়ার ফাইটার মারা গেলেন। রোববার দিনগত রাত ৩টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) মারা যান গাউসুল আজম।

‘একমাত্র ছেলে ফায়ারম্যান গাওসুল আজম’র (২৩) মৃত্যুর খবর শুনে মা আছিয়া বেগম বুক চাপড়াচ্ছেন, আর বিলাপ করতে করতে মুর্চ্ছা যাচ্ছেন। মায়ের আহাজারিতে প্রতিবেশীরা কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না। গাউসের স্ত্রী কাকলী খাতুন ৬ মাস বয়সী ছেলেকে কোলে নিয়ে নির্বাক হয়ে গেছেন। তিনি শোকে পাথর হয়ে যেন কান্নাও ভুলে গেছেন। অগ্নিদগ্ধ গাউসুল আজমের গ্রামের বাড়ি যশোরের মণিরামপুরের খাটুয়াডাঙ্গা গ্রামে।

ওইা গ্রামের আজগার আলীর একমাত্র ছেলে গাউসুল আজম ফায়ারম্যান হিসেবে ২০১৮ সালে এ চাকরিতে যোগদান করেন। বর্তমানে তার কর্মস্থল বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ থানা। তবে ছয়মাসের ডেপুটেশনে কর্মরত ছিলেন চট্টগ্রামের কুমিরা ফায়ার স্টেশনে। সীতাকুন্ডে কন্টেইনার ডিপোতে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটলে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতেই সেখানে ছুটে যান গাওসুলসহ তার সহকর্মীরা। সেখানেই তার গাড়িতেই আগুন ধরে যায়। এতে তার সহকর্মীদের মৃত্যু ঘটলেও গাওসুল আজম আগুনে দগ্ধ হন। ঘটনার রাতেই তাকে ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিট হাসপাতালে আনা হয়। সেখানেই রবিবার রাতে মারা যান তিনি।

গাউসুলের ফুপাতো ভাই কোরবান আলী বলেন, দুই ভাইবোনের মধ্যে গাউসুল ছোট। ২০১৮ সালে ফায়ার ফাইটার হিসেবে চাকরিতে যোগ দেয় গাউসুল। বিয়ে করেছে মাত্র দুই বছর হয়েছে। তার স্ত্রীর নাম কাকলী আক্তার। সিয়াম নামে ৬ মাস বয়সী একটি ছেলে রয়েছে তাদের সংসারে।

তার শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। বাড়িতে এখনও লাশ এসে পৌঁছায়নি।
চাচা আকবর আলী বলেন, ‘ঢাকায় ময়নাতদন্ত হয়ে গেছে। সেখান থেকে গোসল করিয়ে ফায়ার সার্ভিসের হেড অফিসে নিয়ে যাবে। সেখানে জানাজা শেষে তাকে যশোরে আনা হবে। এরপর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। গাউসুলের ভগ্নিপতি ও এক ফুফাতো ভাই মরদেহ আনতে ঢাকায় গেছেন।’

গত ৪ জুন চট্টগ্রামের সীতাকু- উপজেলার কদমরসুল এলাকার বেসরকারি বিএম কনটেইনার ডিপোটিতে আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় বিস্ফোরণ ঘটলে আহত হন ফায়ার সার্ভিস কর্মীসহ দুই শতাধিক মানুষ। এ ঘটনায় গাউসুল আজমসহ এখন পর্যন্ত ১০ ফায়ার সার্ভিস কর্মীর মুত্যু হল। আর সবমিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪৭ জনে।

বিস্তরিত

আরও পড়ুন

আরো খবর দেখুন

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages