মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা না করেই নামের আগে লিখছেন ডাক্তার। নেই বিএমডিসির রেজিস্ট্রেশনও। এমবিবিএস ডাক্তার পরিচয়ে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন রেজাউল ইসলাম মিঠু নামে কথিত ওই ডাক্তার। তিনি মূলত একজন ফার্মাসিস্ট। শিশু বিশেষজ্ঞ সেজে প্রতিদিন রোগী দেখছেন কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মোড় ও সাগরদাঁড়ির চিংড়া বাজারে।
মিঠু নিজেকে খোদ যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তারের চেয়ে নিজেকে বড় ডাক্তার দাবি করে দালালের মাধ্যমে রোগী ভাগিয়ে আনছেন। আবার কয়েকটি ফার্মেসিতে গড়েছেন আস্তানা।
সূত্র জানায়, রেজাউল ইসলাম মিঠু প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চেম্বার করছেন চিংড়া বাজারের ইসলাম ফার্মেসিতে ও বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চেম্বার করছেন হাসপাতাল মোড়ের সোহান ফার্মেসিতে। রোগীর ব্যবস্থাপত্রে নিজের নামের আগে ডাক্তার ব্যবহার করছেন। ডিগ্রি লিখছেন ডি.এম.এফ (ফার্মাসিস্ট)। সেইসাথে নারী, পুরুষ ও শিশু রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয় উল্লেখ করছেন। রোগী দেখতে ফি নিচ্ছেন একশ’ টাকা। এমনকী, রোগী দেখার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য ব্যবস্থাপত্র লিখে দিচ্ছেন। এ সকল টেস্টের জন্য রোগীকে খরচ করতে হচ্ছে ছয়-সাত হাজার টাকা। সামান্য রোগ হলেও ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে মোটা অংকের টাকা।
একাধিক সূত্রের দাবি, রেজাউল ইসলাম মিঠু আগে নার্সারির ব্যবসা করতেন। তারপর শুরু করেন ফার্মেসি ও শিশু খাদ্যের ব্যবসা। হঠাৎ তিনি ডাক্তার হয়ে গেছেন। গোছালো অফিস ছাড়া বসেন না তিনি। সোহান ফার্মেসি ও ইসলাম ফার্মেসির পেছনে আন্ডারগ্রাউন্ডে বসে রোগী দেখছেন কথিত এই ডাক্তার।
মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ এর ১২৫ পৃষ্ঠায় বর্ণিত ২৯ নম্বর আইন মোতাবেক নূন্যতম এমবিবিএস অথবা বিডিএস ডিগ্রি গ্রাপ্তরা ছাড়া অন্য কেউ নামের আগে ডাক্তার পদবী ব্যবহার করতে পারবে না।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে রেজাউল ইসলাম মিঠু জানান, তিনি কোনো ডাক্তার নন। গ্রামের গরিব রোগীদের ২০/৫০ টাকার বিনিময়ে চিকিৎসা দেন। রোগীর ব্যবস্থাপত্রে নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দেয়ার কারণ জানতে চাইলে আমতা আমতা করে ফোন কেটে দেন।
সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন জানান, কোনো ফার্মাসিস্ট নামের আগে ডাক্তার ব্যবহার করতে পারবেন না। কথিত ডাক্তার রেজাউল ইসলাম মিঠু শিশু বিশেষজ্ঞ সেজে রোগীদের সাথে প্রতারণা করছেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

No comments:
Post a Comment