জাতীয় পরিচয়পত্র অনুসারে তার জন্ম ১৯২০ সালের ৩ মার্চ। ওই হিসেবে তার বর্তমান বয়স প্রায় একশ’ এক বছর। বয়সের ভারে ন্যুজ হাজুমতি পাল জানান, ভারত ভাগ হওয়ার ভোট ছাড়াও ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থীকে ভোট দেন। পরে ১৯৭০ সালের নির্বাচনসহ প্রতিটি নির্বাচনেই তিনি নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়েছেন।
এই বয়সে কেন ভোট দিতে এসেছেন জানতে চাইলে এই নারী বলেন, ‘পৌরসভার ভোটেও ম্যাশিনি নৌকা মার্কার ভোট হবে। এ খবর জানতে পেরে মেয়ের জামাই বৈদ্যনাথ পালের সাথে ভ্যান গাড়িতে চেপে ভোট দিতি আইছি। এই হয়তো জীবনের শেষ ভোট।’ এত বয়সেও চশমা ছাড়া ভোট দিতে তার অসুবিধা হয়নি বলে দাবি করেন।
রোববার কেশবপুর পৌরসভা নির্বাচনে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, উৎসবমুখর পরিবেশে নারী-পুরুষেরা ভোট দিচ্ছেন। তাদের দীর্ঘ সারিতে বয়স্ক ও লাঠিতে ভর দেয়া ভোটারের সংখ্যা সেহায়েত কম ছিল না। সকলের কৌতুহল ইভিএমে ভোট দিতে পারা।
পৌরসভার ভোগতি-নরেন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ছোট ছেলে মাসুদের সাথে ভোট দিতে আসেন ওই গ্রামের আলী হোসেন সরদার। জাতীয় পরিচয়পত্রে তার জন্ম তারিখ কমিয়ে ১৯৪৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি করা হলেও তার জন্ম ১৯৪০ সালের আগে বলে জানান তিনি। আয়ূব খানের আমলে ডাকবাংলোয় হাত উঁচু করা ভোটেও তিনি অংশ নিয়েছেন। মেশিনে (ইভিএম) ভোট দেয়ার ইচ্ছা থেকে তিনি ভোট দিতে এসেছেন বলে জানান।
আট নম্বর ওয়ার্ডের ব্রক্ষ্মকাটি শেখপাড়ার শেখ সাজ্জাত আলীর স্ত্রী বয়সের ভারে ন্যুজ নূরজাহান বেগম সকাল ৮টার আগে কেশবপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে লাঠিতে ভর দিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ইভিএমে ভোট দেয়ার জন্য। পৌর কারিগরি ও বাণিজ্য কলেজ কেন্দ্রে সকাল ৯টার দিকে লাঠিতে ভর দিয়ে বৌমা রুনা খাতুনের সাথে ভোট দিতে আসেন নিয়ামত আলী বিশ্বাস (৯৫)। তারও কৌতুহল মেশিনে (ইভিএম) কীভাবে ভোট দেয়া যায় তা দেখা।
কেশবপুর পৌরসভার বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটিতে পুরুষের চেয়ে নারী ভোটারের উপস্থিতি বেশি ছিল। রোববার সকাল ৮টার আগেই বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে পুরুষ ভোটারদের পাশাপাশি নারী ভোটাররাও স্বতঃসম্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে আসেন। সকল আতঙ্ক ও উৎকন্ঠা ছাপিয়ে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

No comments:
Post a Comment