যশোরে চাকু সন্ত্রাস রুখতে অভিযান চলমান রয়েছে পুলিশের। পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় যশোরের সিনিয়র পুলিশ অফিসারদের নেতৃত্বে অভিযান চলছে।এদিকে ১০ ফেব্রুয়ারি পুরাতনকসবার চুয়াডাঙ্গা স্ট্যান্ডে পচাকে ছুরিকাঘাতে হত্যাচেষ্টা ঘটনার আসামিরা গা ঢাকা দিয়েছে।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে মিশন সদস্যদের ব্যাপারে তথ্য আদায় চেষ্টা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রিচার্জ বিশ^াস নামে এজাহারের বাইরের একজনকে আটক করেছে পুলিশ। গত এক সপÍাহের পুলিশি তৎপরতায় অনেক দাগি অপরাধী এলাকা ছেড়েছে বলেও তথ্য মিলেছে।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় যশোরের সাংবাদিকদের সাথে মত বিনিময়ের সময় নবাগত পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার বিপিএম (বার) পিপিএম হুঁশিয়ারি দেন, দলমত নির্বিশেষে অপরাধে জড়ালেও তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যশোরে চাকু সন্ত্রাস বেশি হয়। সন্ত্রাসীরা চাকু ব্যবহার করে অনেকগুলো হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে উল্লেখ করে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
আধুনিক যুগেও প্রাচীন এতিহ্যবাহী যশোরে কেন বেশি বেশি চাকু ব্যবহার হচ্ছে এর কারন খুঁজে বের করাসহ প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে ওই সভা থেকেই সিনিয়র অফিসারদের নির্দেশনা দেন। আর পরের দিন থেকেই এ নিয়ে শহরে ব্যাপক আলোচনা হয়। সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ ও অস্ত্রবাজদের বিরুদ্ধে অ্যাকশান নেয়ার পাশাপাশি চাকু সন্ত্রাসীদের আটকের নির্দেশনা দেন। এরপর থেকেই মাঠে নামে পুলিশ।
এ নির্দেশনায় দাগীরা আটক এড়াতে আত্মগোপনে যাচ্ছে অনেকে। তবে এর মধ্যে ১০ ফেব্রুয়ারি মাত্র দু’হাজার টাকা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বে একাধিক মামলার আসামি পুরাতনকসবার কোরবান আলী পচাকে (৩৫) ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ওই এলাকার চিহ্নিত কয়েক সন্ত্রাসী অনেকের সামনেই ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটায়। ওই ঘটনার পর থেকে পুলিশ সুপার কঠোর নির্দেশনা দেন চাকু সন্ত্রাস রুখতে।
গত এক সপ্তাহে এ নিয়ে শহরে ব্যাপক অভিযান চলেছে। সপ্তাহ জুড়ে সিনিয়র অফিসারগন ওয়ারলেস বার্তায় অন্য অফিসারদের চাকু ছুরি বহনকরা দুর্বৃত্তদের ব্যাপারে সতর্ক দৃষ্টি রাখার নির্দেশনা দেন।
এদিকে পচা হত্যাচেষ্টা ঘটনায় এজাহার নামীয় ৪ আসামিকে আটকে অভিযান চললেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তারা কেউ আটক হয়নি বলে জানিয়েছেন পুরাতনকসবা ফাঁড়ির ইন্সপেক্টর আকিকুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, মামলায় নাম না থাকলেও ঘটনায় জড়িত তথ্যে রিচার্জ নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। এর আগে স্বাক্ষী হিসেবে ওই এলাকার এক চা দোকানীসহ ২/৩ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হলেও জিজ্ঞাাসাবাদ করে ছেড়ে দেয়া হয়। তিনি জানান, ছুরিকাঘাত ও চাকু চক্রকে দ্রুত আটক করা সম্ভব হবে।

No comments:
Post a Comment