পৌরসভার অভূতপূর্ব উন্নয়নই রেন্টুর মনোনয়ন প্রত্যাশার ভীত - Jessore News

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Wednesday, January 27, 2021

পৌরসভার অভূতপূর্ব উন্নয়নই রেন্টুর মনোনয়ন প্রত্যাশার ভীত

যশোর পৌরসভার নির্বাচন আর  মেয়র পদে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নিয়ে শহরে জল্পনা কল্পনার শেষ নেই। নতুনদের  কেউ কেউ যোগ্যতার মাপকাঠিতে মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও বর্তমান মেয়র জহিরুল ইসলাম রেন্টু এগিয়ে রয়েছেন তার শক্ত ভীতের কারণে। গত পাঁচ বছর ধরে গোটা পৌরসভাকে বদলে দেয়ার অঙ্গীকার নিয়ে যে অভূতপূর্ব উন্নয়ন কর্মকা- করেছেন, তা দলের কাছে বড় দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছেন রাজনীতি বিশেষজ্ঞ মহল

যশোর পৌরসভায় গত পাঁচ বছরে বিভিন্ন বিভাগে ২শ’১৭ কোটি টাকার উন্নয়ন করা হয়েছে। যা বিগত বিভিন্ন সময়ের উন্নয়ন কর্মকান্ডের চেয়ে অনেক গুন বেশী।

এসব উন্নয়ন কর্মকান্ড শুধু চোখে পড়ার মতো এমনটি নয়, চিরকালের অবহেলিত এ পৌর এলাকায় এমন কিছু উন্নয়ন কর্মকান্ড হয়েছে, যা নিয়ে রীতিমত হৈচৈ পড়ে গেছে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার স্থাপন এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এরমধ্যে অন্যতম। তাছাড়াও শহর যশোর পরিচ্ছন্ন এবং আলোকিত শহর করার পর সবার দৃষ্টি কাড়ে। আর এসব কিছু সম্ভব হয়েছে পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টুর আন্তরিকতায়।

যশোর পৌরসভার বিগত পাঁচ বছরের কর্মকান্ডের মধ্যে আলোচিত উদ্যোগ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিশোধন কেন্দ্র স্থাপন। যা ওয়েস্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নামে পরিচিত। যশোর-নড়াইল সড়কের প্রবেশমুখে হামিদপুরে ১৩.৯৭ একর জমিতে ২৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ওয়েস্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মিত হয়। ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর এটি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। এটির সক্ষমতা রয়েছে প্রতিদিন অন্তত ৫০ টন বর্জ্য পরিশোধন করা। বর্তমানে এখানে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ মেট্রিকটন বর্জ্য সংগ্রহ করে তার থেকে ১৫ টন কিচেন ওয়েস্ট রিসাইক্লিং এর মাধ্যমে কম্পোস্ট সার তৈরী করা হচ্ছে। যা পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন ইউনিয়নে কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হয়। শুধু তাইই নয়, এখানকার বর্জ্য থেকে বায়ো গ্যাস ও বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে এই প্লান্টে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ওয়েস্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট সারা দেশে দারুণ প্রশংসিতও হয়েছে।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে যশোর প্রথম শত্রু মুক্ত জেলার গৌরব অর্জন করলেও দীর্ঘ ৭৫ বছরেও এখানে কোনো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ছিলো না। সরকারি মাইকেল মধুসূদন মহাবিদ্যালয়ের শহীদ মিনারেই যশোরবাসী ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতেন। জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরপরই যশোরে একটি কেন্দ্রীয় মহীদ মিনার স্থাপনের উদ্যোগ নেন। সে উদ্যোগে সাড়া দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি যশোরে এসে এটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনও করেন। শহরের হযরত গরীব শাহ সড়কের ত্রিমোহনায় নির্মাণ শেষ করে ২০১৯ সাল থেকেই নয়নাভিরাম এ শহীদ মিনারে যশোরের সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করে আসছে। এটি শহরবাসীর একটি প্রাণ কেন্দ্র হিসেবেও সমধিক পরিচিত।
যশোর পৌরসভায় ২১৭ কোটি টাকার উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সড়ক নির্মাণ ও উন্নয়ন, ড্রেন-কালভার্ট নির্মাণ ও উন্নয়ন,  আধুনিক সড়ক বাতি স্থাপন ও পানি সরবরাহের আধুনিকায়ন অন্যতম। এসব কাজের মধ্যে দৃষ্টিনন্দন কাজগুলো সব স্তরের মানুষের কাছে প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিশেষ করে রেলরোড এবং কোর্ট এলাকার সড়ক দু’টি এখন নগরবাসীর বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এ দু’টি সড়কে রোড ডিভাইডার করে সেখানে নানা ধরনের গাছ লাগিয়ে এবং নয়নাভিরাম সড়কবাতি দিয়ে এক অন্যরকম পরিবেশ গড়ে তোলা হয়েছে। এ সড়ক দু’টিতে একসময় সন্ধ্যাবেলাতেই ছিনতাইয়ের ভয়ে মানুষ যেতো না, সেখানে অনেক রাত পর্যন্ত নগরবাসী পরিবার-পরিজন নিয়ে সময় কাটান। যা মেয়র রেন্টুর ‘আমুল বদলে দেয়া’র নির্বাচনী অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন।

সংস্কার ও নির্মাণ কাজে শুধু এই নয়নাভিরাম উদ্যোগই নয়, আরও অসংখ্য কাজে মেয়র রেন্টু দেখিয়েছেন শিল্পের ছোঁয়া। রেল রোডের মুখে রাসেল স্কয়ার গড়ে শুধু প্রশংসা কুড়িয়েছেন এমন নয়, তিনি একসময়ের বাঁশ হাটা বা বাঁশপট্টি নামে পরিচিত সড়কের সড়কদ্বীপে ‘আল্লাহু’ এবং যশোরের প্রতীক ‘খেজুর গাছ’ ভাষ্কর্য্য নির্মাণ করে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এই বাঁশপট্টি এখন নগরবাসীর কাছে ‘প্যারিস রোড’ নামে পরিচিত। মেয়র নতুন খয়েরতলা মোড়ে বিজয়’৭১ ভাষ্কর্যটির উন্নয়নেরও উদ্যোগ নিয়েছেন। আর এক সময়ের ক্রাইম স্পট পৌর পার্কটিকে আমুল বদলে দিয়েছেন। যা এখন নগরবাসীর বিনোদনের অন্যতম স্পটে পরিণত হয়েছে।

এমন বিনোদন ও সমাজ কল্যাণমূলক কাজের তহবিল দিয়ে পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু আরও অসংখ্য নন্দিত কাজ করেছেন। যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান শুধু সংষ্কারই করেননি, বছরের দু’টি ঈদে গোটা মাঠে প্যান্ডেল দিয়ে ফ্যান, সিসি ক্যামেরা, লাইট লাগিয়ে ঈদের জামাতের মনোরম পরিবেশ উপহার দিয়েছেন। যা সব শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রশংসা করেছেন।
সমাজ সেবা ও কল্যাণমূলক খাত থেকে মশক নিধনে বাড়ি বাড়ি স্প্রে মেশিন ও ওষুধ সরবরাহ করে দেয়া ছাড়াও মেয়র রেন্টু করোনাকালীন সাধারণ ছুটিতে খাদ্য সহায়তা প্রদান, মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান, ফুটপাতের হকার পূণর্বাসন কাজেও প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তার অনেক উন্নয়ন কাজ এখনো অব্যাহত আছে।

এসব বিষয় নিয়ে মুঠো ফোনে কথা বললে মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু বলেন, আমি আমার নির্বাচনী অঙ্গীকার যথাযথ বাস্তবায়ন ছাড়াও আমার প্রিয় শহরটিকে ঢেলে সাজিয়েছি। আমার অনেক উন্নয়ন কাজ এখনো চলমান রয়েছে। আমি আমার প্রিয় শহরটিকে অন্ধকারাচ্ছন্ন, ময়লা-আবর্জনার স্তুপ আর এবড়ো থেবড়ো শহর দেখতে চাইনি। শহরবাসীর নগর পরিকল্পনার সব স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই। আর তার জন্যে আমাকে আবারও মেয়র নির্বাচিত করার বিষয়ে সকলেই দৃষ্টি দেবেন বলে আমার বিশ্বাস। সচেতন পৌরবাসীর ধারণা স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশী উন্নয়নের মাধ্যমে শহরকে বদলে দেয়ার এসব কর্মকা-ের জন্যেই মেয়র জহিরুল ইসলাম রেন্টু এবারো দলীয় মনোনয়নের জন্যে বিবেচিত হবেন। এছাড়া ইতিমধ্যে বিএনপির যে কজন প্রার্থীর  নাম শোনা গেছে, তাদের সাথে  ভোট প্রতিদ্বন্দ্বীতার বিষয়টিও বিবেচনা করে আওয়ামীলীগের যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী নির্বাচন হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাদের ধারণা সেক্ষেত্রেও জহিরুল ইসলাম চাকলাদার বিবেচনায় প্রাধান্য পাবেন।

আরও পড়ুন

আরো খবর দেখুন

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages