বর্ষাকালে স্কুলে যেতে পারে না শিশুরা। একমাত্র যাতায়াতের এই কাঁচা রাস্তাটি দিয়ে শ’শ’ মানুষ যাতায়াত করে। পাকা করার কথা থাকলেও ঠিকাদার রাস্তা খুঁড়ে কাজ না করে ছয় বছর ফেলে রাখায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বর্তমানে বর্ষাকাল হওয়ায় এলাকার মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। হাটুসমান কাদার মধ্যে দিয়ে তাদের চলাচল করতে হচ্ছে প্রতিদিন।
বর্তমানে রাস্তাটি একেবারেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।দেশ স্বাধীনের পর আব্দুলপুর বাজার থেকে পুকুর বাগডাঙ্গাবাসীর জন্যে তিন কিলোমিটার বড় কাঁচা রাস্তাটি যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন। রাস্তাটি বাগডাঙ্গা বাজারে গিয়ে ঠেকেছে।
সবজি প্রধান এলাকা হওয়ায় চাষিরা তাদের সবজি বাজারজাত করতে ব্যবহার করেন এই রাস্তাটি। কৃষক ও এলাকাবাসীর কষ্টের কথা ভেবে ছয় বছর আগে রাস্তাটি পাকাকরণের জন্যে টেন্ডার হয়।
কাজ পান যশোর শহরের বেজপাড়ার তুহিন নামের একজন ঠিকাদার।
তিনি যথাসময়ে কাজ শুরু না করে টেন্ডারের এক বছর পর রাস্তাটি খোঁড়ার কাজ শেষ করেন।এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তার কাজ করার সময় মালামালের দাম বৃদ্ধির কথা বলে ঠিকাদার চলে যান। গ্রামবাসী বহুবার তার এবং উপজেলা কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেও কোনো ফল পায়নি।দীর্ঘ ছয় বছর রাস্তাটি খুঁড়ে রাখার কারণে চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চাষিরা মাথায় করে তাদের সবজি বিক্রির জন্যে পাকা রাস্তায় আনছেন। যা রীতিমতো কষ্টের। আবার অনেকে আনছেন গরুর গাড়িতে করে। বর্ষার সময় কেউ অসুস্থ হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে বেগ পেতে হয় এখানকার মানুষের।
সবচেয়ে বেহালদশা রাস্তার মধ্যবর্তী স্থান ইশারত হোসেনের বাড়ির সামনে ও এর আশেপাশে। এখানে রাস্তাটি এতটাই খারাপ, দেখলে মনে হবে চাষ করা কোনো জমি। পাশের পুকুর ভেঙে রাস্তার সাথে একাকার হয়ে গেছে। অবস্থা এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, এই জায়গা দিয়ে আর চলাচলের কোনো উপায় নেই।এ রাস্তা দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী আমিরুল ইসলাম, ইশারত হোসেন ও গ্রাম বাসি জানান, ‘প্রতিদিন হাঁটু সমান কাদার মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
বর্ষাকালে শিশুরা স্কুলে যেতে পারে না।’ একই কথা বলেন শাহিন নামে এক যুবকও। তিনি পুনঃটেন্ডারের মাধ্যমে দ্রুত রাস্তাটির কাজ শুরু করার দাবি জানান।স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার সিরাজুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটির কাজের ব্যাপারে তিনিসহ গ্রামবাসী ঠিকাদার এবং বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করেও ফল পাননি। এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মুন্না বলেন, রাস্তাটির কাজ শুরু করে ঠিকাদার কী কারণে আর করলো না তা তার জানা নেই। খোঁড়ার কারণে বর্তমানে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে জানান।

No comments:
Post a Comment