
দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত। দেশটির সঙ্গে মোট ৬টি দেশের সীমান্ত অবস্থিত। বাকী ৫টি দেশের সীমান্তে শান্তিপূর্ণ, সহমর্মিতা ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব থাকলেও সীমান্ত হত্যায় ভারত সবচেয়ে বেশি এগিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে।
চিরশত্রু পাকিস্তান সীমান্তেও এমন অহেতুক হত্যাযজ্ঞ চালায় না ভারত। এছাড়া চীন, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার সীমান্তেও এমন হত্যার ঘটনা প্রায় শূন্য।
সম্প্রতি সীমান্তে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না ভারতের। দিন দিন যুদ্ধের দিকেই আগাচ্ছে সীমান্ত সমস্যাগুলো। কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গেও বিবাদ দীর্ঘদিনের। আর নেপাল তো ভারতের ভূখণ্ড নিয়ে নতুন মানচিত্রই প্রকাশ করেছে। লাদাখে চীনের সঙ্গে যুদ্ধাবস্থা বিদ্যমান। তবে এত সমস্যার ভিড়েও ভারতের সকল রাজত্ব কেবল বাংলাদেশ সীমান্তেই বিদ্যমান।
বারবার আলোচনা ও আশ্বাসের পরও বাংলাদেশ সীমান্তে থামছে না ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র হত্যাকাণ্ড। বেড়েই চলেছে এই একপেশে হত্যাযজ্ঞ। প্রতিবেশী এই দেশটির সীমান্তরক্ষীর হাতে ২০১৯ সালে রেকর্ড পরিমাণ হত্যাকাণ্ড ঘটে। আর চলতি বছরের শুরুতেই এই হত্যাযজ্ঞ বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে।
গত ৬ মাসে সীমান্তে বিএসএফের গুলি ও নির্যাতনে বাংলাদেশিদের মৃত্যুর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। বেসরকারি সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য বলছে, ২০২০ সালের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) সীমান্তে ২৫ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ২১ জনই নিহত হয়েছেন বিএসএফের গুলিতে।
সংগঠনটি দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তারা এ রিপোর্ট তৈরি করেছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৯ সালের প্রথম ছয় মাসে বিএসএফের গুলিতে ১৮ জন বাংলাদেশি নিহত হন। এ ছাড়া ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের নির্যাতনে দুই জনের মৃত্যু হয়। ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে সীমান্ত হত্যার সংখ্যা তিনগুণ বেড়েছিল।
আসকের তথ্যমতে, ২০১৯ সালে বিএসএফের হাতে ৪৩ বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছিলেন। এর মধ্যে ৩৭ জনই গুলিতে প্রাণ হারান। বাকি ৬ জন নির্যাতনে মারা যান। অথচ আগের বছর (২০১৮) এ সংখ্যা ছিল ১৪ জন।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি নিহত হয়েছেন রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন সীমান্তে।
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ২০০৯ সালে বিএসএফের গুলি ও নির্যাতনে ৬৬ জন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। এ ছাড়া ২০১০ সালে ৫৫ জন, ২০১১ ও ২০১২ সালে ২৪ জন করে, ২০১৩ সালে ১৮ জন, ২০১৪ সালে ২৪ জন, ২০১৫ সালে ৩৮ জন, ২০১৬ সালে ২৫ জন, ২০১৭ সালে ১৭ জন নিহত হন।
No comments:
Post a Comment