ঝিনাইদহে মৃত ব্যক্তিও খাচ্ছে সরকারি চাল - Jessore News

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Sunday, June 7, 2020

ঝিনাইদহে মৃত ব্যক্তিও খাচ্ছে সরকারি চাল

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মধুহাটী ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মৃত আব্দুল জলিলের স্ত্রী লাইলী বেগম। যিনি মারা গেছেন ১০ থেকে ১২ বছর আগে। অথচ এই মৃত ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র (৪৪১১৯৫২০৯০৪৯৫) ব্যবহার করে মধুহাটী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের একাধিক ব্যক্তি ১০ টাকা কেজি দরের সরকারি চাল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া মুসলিম জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে হিন্দু ও হিন্দু ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে মুসলমানদের তালিকা করা হয়েছে। এক গ্রামের জাতীয় পরিচয়পত্র অন্য গ্রামে ব্যবহার করা, নারীর আইডি দিয়ে পুরুষ আর পুরুষের আইডি ব্যবহার করে নারীর চালের কার্ড বানানো হয়েছে। এভাবে ওই ইউনিয়নে ১০/১২ জনের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে অর্ধশত ব্যক্তির চালের কার্ড করা হয়েছে।
অভিযোগ, চেয়ারম্যানসহ কতিপয় ইউপি সদস্য ও দুই ডিলার বছরের পর বছর ধরে জালিয়াতির মাধ্যমে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দকৃত এই চাল নামে-বেনামে তুলে নিচ্ছেন। ইউনিয়নের দুই ডিলার নয়ন ও ইন্তা ওজনেও কম দিচ্ছেন বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন।
সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিন তদন্ত করে এই দুর্নীতি ও অনিয়মের চিত্র পাওয়া গেছে।
এদিকে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর মধুহাটী ইউনিয়নের কুবিরখালী গ্রামের রফিকুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম ও দুর্গাপুর গ্রামের বদর উদ্দীন লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর চালের কার্ড হারানোর গণজিডি করা হয়েছে ঝিনাইদহ সদর থানায়।
দুর্নীতি, অপকর্ম ও একজনের চাল অন্যজন তুলে নেওয়ার তথ্য আড়াল করার জন্য এই জিডি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাত অভিযোগ তদন্তে রোববার মধুহাটী ইউনিয়ন পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি অভিযোগকারীদের বক্তব্য রেকর্ড করেন। অনেকেই তার কাছে চাল না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন।
তবে মধুহাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক আহম্মেদ জুয়েল বলেছেন, ১ হাজার ২৪১টি তালিকা করতে গিয়ে কম্পিউটারে টাইপিং মিসিং (ভুল) হতে পারে। এগুলো সংশোধন করে বাদ দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিন তদন্ত করে জানা গেছে, ১০/১২ বছর আগে মারা যাওয়া মৃত লাইলী বেগমের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে গোপালপুরের আব্দুলের ছেলে আমিরুল, একই গ্রামের রুহুল আমিনের স্ত্রী রেশমা খাতুন, আইয়ুব হোসেনের ছেলে মিন্টু মিয়া, মির্জাপুর গ্রামের ইসমাইলের ছেলে আক্তার হোসেন, নওদাপাড়া গ্রামের বিশারতের ছেলে মোশারেফ, বদর উদ্দীনের ছেলে নুর ইসলাম, কুবির খালী গ্রামের বুদোই মন্ডলের ছেলে কলিম উদ্দীন, একই গ্রামের জাবেদ আলীর স্ত্রী শাহেদা বেগম, ওয়াড়িয়া গ্রামের হালদারের ছেলে সম্ভু হালদার ও একই গ্রামের বদরের ছেলে বাবলুসহ একাধিক ব্যক্তির নামে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের চালের কার্ড হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সার্ভয়ারে লাইলী বেগমকে মৃত দেখানো আছে। তার জন্ম সাল ১৯৪০।
এদিকে মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে চাল পাচ্ছেন লাইলী বেগমের ছেলে আবুল হোসেন আবুও। আবুলের নিজস্ব জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলেও তা নেওয়া হয়নি। লাইলী বেগমের পরিবার একজন মৃত মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে একাধিক ব্যক্তির নামে চাল তোলার খবরটি শুনে বিস্মিত হন।
মৃত লাইলী বেগমের পুত্রবধূ আকলিমা খাতুন ও পালক ছেলে আল আমিনের দাবি, এই অন্যায় কাজ যারা করেছে তাদের শাস্তি হোক।
গোপালপুর গ্রামের শুধু মৃত লাইলী বেগমই নন ওই গ্রামের দত্তপাড়ার শচিন্দ্র নাথ দত্তের ছেলে অশোক কুমার দত্ত তিন বছর ধরে ঢাকার গাজীপুর চান্দুরা এলাকায় থাকেন। তার নামে খাদ্য বান্ধব কর্মসুচির চালের কার্ডও রয়েছে। তিনি এই কার্ডে চাল উত্তোলন না করলেও প্রতি মাসে তার নামের চাল কে বা কারা তুলে নিচ্ছে। অথচ অভাবের তাড়নায় দুই ছেলে অসিম ও নয়নকে নিয়ে অশোক দত্ত ঢাকায় চলে গেছেন। লেখাপড়া ছেড়ে তার দুই ছেলে এখন গার্মেন্টসকর্মী।
মুঠোফোনে কথা বলতে গিয়ে আশোক ও তার স্ত্রী শিখা রানী দত্ত কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তারা বলেন, চরম অভাবের তাড়নায় দুমুঠো ভাতের জন্য আমরা গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় এসেছি। অথচ আমাদের নামে কে বা কারা চাল তুলে খাচ্ছে আমরা নিজেরাও জানি না।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages