কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে কুরআন অবমাননার প্রতিবাদে পীরের আস্তানায় আগুন ও লুটপাটের ঘটনায় কথিত পীর শফিকুল ইসলামের পক্ষে তার আস্তানার খাদেম উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ফরিদপুর গ্রামের মৃত মফিজ উদ্দিনের পুত্র মােঃ আবু কালাম (৩০) বাদী হয়ে হাজারী নগর গ্রামের মৃত আঃ হাই এর পুত্র মােঃ এমাদ মিয়া (৩৮)'কে প্রধান আসামী করে ২৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত নামা আরো ৩৫/৪০ জনের বিরুদ্ধে কুলিয়ারচর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার হাঁফানিয়া গ্রামের মৃত মতি মিয়ার পুত্র কথিত শফিকুল ইসলাম তার নিজ বসত বাড়িতে আস্তানা করে দীর্ঘদিন যাবৎ পীরালী করে আসছিলেন। আর অভিযোগকারী মোঃ আবু কালাম ওই পীরের আস্তানায় দীর্ঘদিন যাবৎ খাদেম হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিল।
আস্তানার খাদেম তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, উল্লেখিত বিবাদীগন দীর্ঘদিন যাবৎ উক্ত আস্তানার বিরোধীতা সহ আস্তানাটি উচ্ছেদ করার পায়তারা করিয়া আসিতেছে। উক্ত আস্তানায় ভক্তগনের উপস্থিতিতে গত ইং- ০৯/০৩/২০২০ তারিখ দিবাগত রাতে বাউল গানের অনুষ্ঠান হয়। ঘটনার তারিখ ও সময়ে উল্লেখিত বিবাদীরা তাদের সঙ্গীয় অজ্ঞাতনামা লোকজন সহ ধারালো রামদা, লোহার রড, শাবল লাটি সোটা নিয়ে বে-আইনি জনতাবদ্ধে জোরপূর্বক ঘটনাস্থলে অতর্কিতভাবে অনধিকার প্রবেশ করিয়া ১ নং বিবাদীর প্রত্যক্ষ ও পরােক্ষ উপস্থিত ভক্তগনকে মারপিট করিয়া খুন জখম করার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আস্তানার তিনটি দু-চালা টিনের ঘরে দিয়াশলাই বা অন্য উপায়ে আগুন লাগাইয়া তিনটি ঘর সহ ঘরের ভিতরে থাকা ফ্রিজ, চেয়ার, টেবিল, খাট সুকেচ, আলমীর, ওয়ার্ডড্রোপ, ড্রেসিংটেবিল, আলনা, বিভিন্ন বই, কিতাব, বিছানা পত্র, হাড়িপাতিল সহ নগদ টাকা আগুনে পোড়াইয়া ছাই করিয়া অনুমান ২, ৫০, ০০০ /- টাকার ক্ষতি সাধন করে। তাছাড়াও ১নং সাক্ষী, মাটিকা গ্রামের বড় বাড়ির মৃত আতাউর রহমানের পুত্র মাওলানা আব্দুল হক জালালীর একটি দু-চালা টিনের ঘর সহ ঘরের জিনিসপত্রে আগুন লাগাইয়া পােড়াইয়া ছাই করিয়া অনুমান ১০০, ০০০/- টাকার ক্ষতি সাধন করে। ২নং সাক্ষী, মৃত নাজিম উদ্দিনের স্ত্রী সুরাইয়া বেগর একটি দু-চালা টিনের ঘর সহ ঘরের জিনিসপত্র ভাংচুর করিয়া অনুমান ২৫, ০০০/- টাকার ক্ষতি সাধন করে। ৩নং সাক্ষী, মৃত জাহেদ আলীর পুত্র সায়েদ আলীর একটি চৌ-চালা টিনের ঘর সহ ঘরের জিনিসপত্র ভাংচুর করিয়া অনুমান ২০, ০০০/- টাকার ক্ষতি সাধন করে। ৫নং সাক্ষী, মৃত মহব্বত আলীর পুত্র শহিদুল মিয়ার একটি মুরগীর খামার ভাংচুর করিয়া ৫০০ শত মুরগী মারিয়া অনুমান ৩, ৮০, ০০০/- হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করিয়া চলে যায়।
বাড়িঘর ভাংচুর সহ আগুন দিয়ে পূড়ার সময় সাক্ষীগন সহ স্থানীয় লােকজন বিবাদীদের চিনতে পারে। আর অজ্ঞাতনাম লােকদের দেখলে চিনতে পারবে বলে বাদী তার অভিযোগে উল্লেখ করেন।


No comments:
Post a Comment