আগামী ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও। কোনোভাবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে না পারলেও যশোর সদর উপজেলার ১৫ টি ইউনিয়নের মধ্যে ১৩ টিতে প্রার্থী দিয়েছে ‘হাতপাখা’ প্রতীকের এই দল। তবে, ইসলামী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ দু’ একটি ইউনিয়নে তাদের প্রার্থী বিজয়ী হতে পারে বলেও জানিয়েছেন।
সদর উপজেলার ১৫ টি ইউনিয়নের মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা মাঠে নেমেছেন ১৩ টিতে। ইউনিয়নগুলো হচ্ছে, হৈবতপুরে মাস্টার সোহরাব হোসেন, লেবুতলায় হাফেজ সাখাওয়াত হোসেন, ইছালীতে আব্দুল কাদের, নওয়াপাড়ায় মোশাররফ হোসেন, কাশিমপুরে মাওলানা মাহমুদ হাসান, চুড়ামনকাটিতে আব্বাস উদ্দিন বিশ্বাস, দেয়াড়ায় মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, আরবপুরে মাস্টার হাবিবুর রহমান, চাঁচড়ায় সামছুর রহমান, রামনগরে আব্দুস সাত্তার তরফদার, ফতেপুরে মুফতি ওসমান গনি, কচুয়ায় মাস্টার বাবুল হুসাইন ও নরেন্দ্রপুরে মুক্তিযোদ্ধা অলিয়ার রহমান। এসব প্রার্থী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে লড়বেন নির্বাচনী মাঠে।
দু’টি ইউনিয়নে প্রার্থী খুঁজে পায়নি চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এই দু’টি ইউনিয়ন হচ্ছে, উপশহর ও বসুন্দিয়া।
ভোটাররা বলছেন, হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীরা যশোর সদর উপজেলার কোনো ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারবেন না। তারা যৎসামান্য ভোট পাবেন। তারপরও তারা মাঠ ছাড়ছেন না। অতীতের পরিসংখ্যানও তাই বলছে। কোনো ইউনিয়নে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী কোনো নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসতে পারেননি। যা ভোট পেয়েছেন তাও উল্লেখ করার মতো না।
যদিও এই দলের নেতৃবৃন্দ দু’একটি ইউনিয়নে তাদের প্রার্থী জয়লাভ করতে পারেন বলে জানান। বিশেষ করে তারা চুড়ামনকাটি ও ফতেপুরে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সদর উপজেলা শাখার সেক্রেটারি আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘নিরপেক্ষ ভোট হলে তাদের প্রার্থীরা বিজয়ী হবেন।’ বিশেষ করে চুড়ামনকাটি ও ফতেপুরে তাদের প্রার্থীর অবস্থা ‘খুবই ভালো’ বলে দাবি করেন তিনি। তবে, বিভিন্ন ইউনিয়নের ভোটারদের বক্তব্য, ‘সদর উপজেলার কোনো ইউনিয়নে হাতপাখা তাদের নেতাকর্মীদের প্রাণ জুড়াতে পারবে বলে মনে হয় না। সেই সক্ষমতা তাদের নেই।’
একাধিক ইউনিয়নে খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, স্থানীয় অনেকেই হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থীকে চেনেনই না। ইতিপূর্বে কোনো কর্মসূচিতে তাদের দেখেননি বলে জানান তারা। এই অবস্থায় কেবল নির্বাচনী মাঠে থেকেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে।
No comments:
Post a Comment