যশোরের খোলাডাঙ্গায় এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে সতীঘাটা কামালপুরের বাচ্চু গাজী (৩৫) খুন হওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ দু’জনকে আটক করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ তথ্য পেয়েছে হত্যাকান্ডে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক রিকশাচালক ও সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্রের তিনজন জড়িত। নিহত বাচ্চু লেদ মিস্ত্রির আড়ালে পেশাদার ছিনতাইকারী ছিল। সে একটি সিন্ডিকেট পরিচালনা করতো বলে তথ্য মিলেছে।
১০ মার্চ সকাল সাড়ে ১১ টায় খোলাডাঙ্গা গ্রামের আশরাফ আলীর ধানখেত থেকে উদ্ধার হয় রবিউল গাজীর ছেলে বাচ্চু গাজীর লাশ। উপুর্যপরি ছূরিকাঘাতে তাকে হত্যা করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দু’ জোড়া স্যান্ডেল ও একটি চাকু উদ্ধার করে।
যশোর কোতোয়ালি থানার এসআই আ ফ ম মনিরুজ্জামান মনির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করাসহ ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেন। ছিনতাই কিংবা মাদক ব্যবসা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষরা তাকে হত্যা করতে পারে এমন ধারণা করে পুলিশ। বহুল বিতর্কিত এবং মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িত বাচ্চু গাজীর একাধিক ঠিকানা পাওয়ায় তাকে নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়। প্রকৃতপক্ষে তার বাড়ি সতীঘাটা কামালপুর হলেও পকেটে যে ন্যাশনাল আইডি কার্ড পাওয়া যায় তাতে ঠিকানা লেখা ছিল যশোর সদর উপজেলার বাউলিয়া গ্রাম। আবার সে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার লিয়াকত হোসেনের মেয়ে বিয়ে করে যশোর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বসবাস করতো।
হত্যাকান্ডের ব্যাপারে পুলিশের কয়েকটি টিম খোঁজ খবর নিয়ে পরিষ্কার হয় ছিনতাই করতে গিয়েই খুন হয়েছে বাচ্চু। আলমগীর হোসেন নামে রিকশা ছিনতাকারী চক্রের এক সদস্য আটক হলে ঘটনা আরও পরিষ্কার হয়। থানা সূত্র জানিয়েছে,ধৃত আলমগীর হোসেন ও পলাতক ওয়াহিদ, আল আমিন ও বাচ্চু গাজী এক সাথে ছিনতাই করতো। বাচ্চু ও ওয়াহিদ চাকু দিয়ে রিকশাচালকের গতিরোধ করে। আর আলমগীর রিকশা নিয়ে দেয় আল-আমিনের কাছে। আল-আমিন দ্রুত সটকে পড়ে। পরে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এক জায়গায় হয়ে ওই রিকশা বিক্রি করে টাকা ভাগ করে নেয়।
ঘটনার দিন রাত ১০ টার দিকে বাচ্চু যশোর টার্মিনাল এলাকা থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের এক রিকশাচালককে টার্গেট করে। এরপর তার পিছনে আরেকটি রিকশা আসায় সেটি ছেড়ে দেয় সে। এরপর মন্ডলগাতি থেকে আরও একটি রিকশা টার্গেট করে ভাড়া করে নিয়ে যায় খোলাডাঙ্গা সার গোডাউন সংলগ্ন গাজীর বাজার এলাকায়। এরপর ওয়াহিদ ওই অজ্ঞাত পরিচয়ের চালককে জাপটে ধরে আর চাকু মারতে উদ্যত হয় বাচ্চু। তখন চাকু কেড়ে নিয়ে এলোপাতাাড়ি আঘাত শুরু করে ওই রিকশাচালক। তখন বাচ্চুর তিন সহযোগী তাকে ফেলে পালিয়ে যায়। এমন বর্ণনা দিয়েছে আটক আলমগীর। তার তথ্যে পুলিশ আরও একজনকে আটক করলেও তার নাম বলেনি।
এ ব্যাপারে এসআই আ ফ ম মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, এই খুনের ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয়ের রিকশাচালক একাই জড়িত থাকলেও পরোক্ষভাবে বাচ্চুর সহযোগী ছিনতাইকারীরা জড়িত। এ ঘটনায় ওয়াহিদকে খোঁজা হচ্ছে বলে জানান তিনি। ওয়াহিদ আটক হলে সব পরিষ্কার হবে। এছাড়া, যশোরাঞ্চলের সংঘবদ্ধ রিকশা ছিনতাইকারী চক্রের দিকেও পুলিশের নজর রয়েছে। দ্রুতই ওই চক্রকে আটক করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা। বাচ্চু হত্যাকান্ডের ঘটনায় তার স্ত্রী মামলার বাদী হয়েছেন।
এ ব্যাপারে এসআই আ ফ ম মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, এই খুনের ঘটনায় অজ্ঞাত পরিচয়ের রিকশাচালক একাই জড়িত থাকলেও পরোক্ষভাবে বাচ্চুর সহযোগী ছিনতাইকারীরা জড়িত। এ ঘটনায় ওয়াহিদকে খোঁজা হচ্ছে বলে জানান তিনি। ওয়াহিদ আটক হলে সব পরিষ্কার হবে। এছাড়া, যশোরাঞ্চলের সংঘবদ্ধ রিকশা ছিনতাইকারী চক্রের দিকেও পুলিশের নজর রয়েছে। দ্রুতই ওই চক্রকে আটক করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা। বাচ্চু হত্যাকান্ডের ঘটনায় তার স্ত্রী মামলার বাদী হয়েছেন।

No comments:
Post a Comment