লাল মুক্তি বার্তায় নাম আছে ৪৪ জনের - যশোরে সদরে ১৮৮ মুক্তিযোদ্ধাকে যাচাইয়ের জন্য আমন্ত্রণ - Jessore News

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

Thursday, January 28, 2021

লাল মুক্তি বার্তায় নাম আছে ৪৪ জনের - যশোরে সদরে ১৮৮ মুক্তিযোদ্ধাকে যাচাইয়ের জন্য আমন্ত্রণ

যশোর সদরে যাচাই বাছাইয়ের আওতায় আনা গেজেটভুক্ত ২৩৯ মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ১৮৮ জনকে উপজেলায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তালিকার ৪৪ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম ভারতীয় লাল মুক্তি বার্তায় থাকায় তাদের যাচাই বাছাইয়ের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। এছাড়া মারা যাওয়া মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য সাক্ষী-প্রমাণ অনেকটা শিথিল করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাইয়ের জন্য চূড়ান্ত কমিটি করা হয়েছে। যশোর সদরে এক সদস্য পরিবর্তন হয়েছে। চৌগাছার কমিটি নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। যশোর সদরে আগামী ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি দু’দিন সাক্ষী-প্রমাণ হাজির করতে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

যশোর জেলা প্রশাসন ও সদর উপজেলা প্রশাসন থেকে তথ্য মিলেছে, ২০১০ সালের আগ পর্যন্ত যেসব মুক্তিযোদ্ধা গেজেটভুক্ত হয়েছেন তাদের ব্যাপারে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল জামুকার পক্ষে নানা তথ্য দেয়া হয় মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ে। ওই সময়ের মধ্যে তালিকাভুক্ত হওয়া অনেক মুক্তিযোদ্ধার ব্যাপারে সরাসরি নানা অভিযোগ ও অনেকের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। জামুকার চিঠি চালাচালির এক পর্যায়ে যশোর সদর উপজেলার গেজেটভুক্ত ২৩৯ জন মুক্তিযোদ্ধাকে যাচাই বাছাই তালিকায় আনা হয়। সব শেষে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে ২৩৫ জন মুক্তিযোদ্ধাকে যাচাইয়ের আওতায় আনতে পত্র আসে যশোরে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের আপত্তির কারণে ২০১০ সালের আগের গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন করে যাচাই বাছাইয়ের আওতায় আনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

২০১৭ সালে যাচাইয়ে বাদ পড়া মুক্তিযোদ্ধারা আদালতের নির্দেশে ভাতা চালু করে আনায় বিষয়টি নিয়ে আরও জোরেসরে যাচাই বাছাইয়ের দাবি তোলে জামুকা। এব্যাপারে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করে নতুন বছরের শুরুতেই জেলা প্রশাসক ও সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার কার্যালয়ে চিঠি পাঠিয়ে ২৩৯ জন মুক্তিযোদ্ধার কাছে এই মেসেজ পৌঁছে দেয়া হয়। সর্বশেষ ১৮৮ জনকে যাচাইয়ের আওতায় আনতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ লক্ষে যশোর সদর উপজেলা যাচাই বাছাই কমিটি চূড়ান্ত হয়েছে। এর মধ্যে জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধকালীন যশোর জেলা মুজিব বাহিনীর কমান্ডার আলী হোসেন মনি। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল জামুকা তথা মন্ত্রণালয়ের পক্ষে মুক্তিযোদ্ধা সবুর মোস্তফা হেলালকে ওই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামানকে করা হয়েছে সদস্য সচিব।

এছাড়া, যশোর-৩ আসনের এমপি কাজী নাবিল আহমেদের মনোনীত একজন মুক্তিযোদ্ধা সদস্যের নাম অপেক্ষায় রয়েছে। গত ২৬ ও ২৭ জানুয়ারি জামুকার প্রতিনিধি হিসেবে যশোর জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা রাজেক আহমেদের নাম সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করে উপজেলায় চিঠি আসলেও তা পরিবর্তন করা হয়েছে। ২৮ জানুয়ারি তার পরিবর্তে নাম এসেছে সবুর মোস্তফা হেলালের নাম।

আগামী ৩০ জানুয়ারি ও ৩১ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বাছাই কার্যক্রম চলবে। লাল মুক্তি বার্তায় নাম থাকা মুক্তিযোদ্ধারা ছাড়া সবাইকে সাক্ষী প্রমাণসহ হাজির হতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
এদিকে, চৌগাছা উপজেলা যাচাই বাছাই কমিটি নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ওই কমিটিতে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির মুক্তিযোদ্ধারা স্থান পাননি বলে দাবি করা হয়েছে।

এব্যাপারে যশোর সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান গ্রামের কাগজকে জানিয়েছেন, যাচাই তালিকায় প্রথমে ২৩৯ জনকে রাখা হলেও পরে ২৩৫ জনের ব্যাপারে পত্র এসেছে। এর মধ্যে ৪৪ জনের নাম লাল মুক্তি বার্তায় থাকায় তাদের বাদ রেখে ১৮৮ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এমপির প্রতিনিধি বাদে কমিটি প্রায় চূড়ান্ত। স্বচ্ছতার সাথে বাছাই কার্যক্রম এগুবে।

আরও পড়ুন

আরো খবর দেখুন

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages