
ভালোবাসার পরীক্ষা দিতে গিয়ে আগুনে ঝলসে জীবন দিতো হলো যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কাউরিয়া ঋষিপাড়া অন্তঃসত্ত্বা পুতুল রানী দাসকে।
স্বজনদের অভিযোগ চোখের সামনে এ ঘটনা ঘটালেও তাকে রক্ষা না করে বসে ছিলেন তার স্বামী। অবশ্য স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যদের দাবি রাগের বসে আত্মহত্যা করেছে পুতুল এবং তাকে রক্ষা করতে গিয়ে সেও দগ্ধ হয়েছে। পুলিশ বলছে পারিবারিক কলহের জের ধরে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ ওঠায় প্রদীপকে আটক করা হয়েছে।
চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলো পুতুল রানী দাস। প্রতিবেশি টিউবয়েলে যাওয়া নিয়ে ঝগড়ার হওয়ায় তাকে সেখানে যেতে নিষোধ করেছিল তার স্বামী। কিন্তু পুতুল রাজি না হওয়ায় তাকে ভালোবাসার পরীক্ষা দিতে গায়ে কেরসিন ঢেলে আগুল লাগানোর কথা বলে স্বামী প্রদীপ। তার কথার প্রমাণ দিতে নিজের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয় পুতুল। কিন্তু ভালোবাসার স্বামী তাকে রক্ষার কোন চেষ্টা করেনি। এভাবেই পুতুলের মৃত্যুর আগে দেয়া ভাষ্যের বর্ণনা দিচ্ছিলেন অগ্নিদগ্ধে নিহত পুতুলের মামী।
গৃহবধূ পুতুলের কাকা সঞ্জয়কুমার জানান, ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রথমে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে এবং এখান থেকে তাকে খুলনা রেফার করা হয়। সেখান থেকে ঢাকা রেফার করা হলে যাওয়ার পথে গোপালগঞ্জের কাছে পুতুল মারা যান। সঞ্জয় দাবি করেন, মৃত্যুর আগে পুতুল তাকে বিস্তারিত বলে গেছেন।
পুতুল জানিয়েছেন, রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার একপর্যায়ে প্রদীপ তাকে বলেন, ‘তুই আমাকে কত ভালোবাসিস তা গায়ে আগুন দিয়ে দেখা।’ এই পর্যায়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুতুল আগুন ধরিয়ে দেন। সেই আগুনে পুড়ে তার মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের মা জানান, রাতে প্রদীপ ও তার স্ত্রী পুতুলের মধ্যে ঝগড়া হচ্ছিল। একপর্যায়ে তাদের চিৎকার শুনে বাইরে এসে দেখেন ঘরের মধ্যে আগুন জ্বলছে। এসময় প্রতিবেশিরা তাদের উদ্ধার করে ঝিকরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। পুতুলের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাতেই তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় রেফার করা হয়।
No comments:
Post a Comment