বেতালপাড়া হতে সলুয়া বটতলার দূরত্ব তিন কিলোমিটার। দশ বছর আগে গ্রামীণ এই মেঠো রাস্তার এক কিলোমিটার অংশে বিছানো হয় ইট। বাকি অংশটুকু এখনো কাঁচা রয়েছে। দীর্ঘদিন রাস্তাটি সংস্তকারের অভাবে খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। যশোরের বাঘারপাড়ার জহুরপুর ইউনিয়নের এই রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলাও কষ্টকর। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জহুরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা রাস্তার বেতালপাড়া বাজারের অংশটুকুতে ইটের সলিং বসান। ২০১৯ সালের শেষের দিকে দু’ কিলোমিটার মেরামতের জন্য টেন্ডার আহবান করা হয়। অথচ বছর পেরুলেও এখনো রাস্তার কোনো কাজই শুরু হয়নি। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর’র (এলজিইডি) উদাসীনতা ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নানান অজুহাতকেই দায়ী করছেন তারা।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, বেতালপাড়া মাদ্রাসা মোড় থেকে হলদা মাঠের মধ্যবর্তী পর্যন্ত দু’ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশা। এর মধ্যে রাস্তার ইটের সলিংয়ের সিংহভাগ অংশ বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে কাঁচা অংশের সবটুকুও বড় বড় গর্ত আর হাঁটু সমান ধুলায় ভরা। এতে কৃষিপণ্য পরিবহনে ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের চলাচলে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ইঞ্জিনচালিত তিন চাকার ইজিবাইক, নছিমন ও ভ্যান চালকরা বলেন, ‘খুব ধীরে যেতে হয়। এতে সময় লাগে বেশি। বৃষ্টির সময় কোথায় গর্ত ও কোথায় কাঁদা বোঝা যায়না। প্রায়ই তাদের পণ্য ও যাত্রীবাহী গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। নষ্ট হচ্ছে গাড়ির যন্ত্রাংশ।’
কৃষক আব্দুল বারিক বলেন, ‘খেত থেকে ধানবোঝাই করে বাড়ি আনার সময় রাস্তায় গাড়ি পাল্টি (উল্টে যায়) খায়। বৃষ্টির সময় মাটির রাস্তায় কোনো গাড়ি চলে না। এসময় মাথায় করে ও বাইসাইকেলে খুবই কষ্ট করে উৎপাদিত ফসল বাজারে তুলতে হয়। একই কথা বলেন স্থানীয় কৃষক লিয়াকত হোসেন ও এনামুল হোসেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দীন বলেন, হলদা, বেতালপাড়া, বাতিডাঙ্গা, দক্ষিণ সলুয়া, উত্তর সলুয়া ও নরসিহংপুরসহ আশপাশের গ্রামে প্রচুর ধান ও কচুর লতি চাষাবাদ হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় বেতালপাড়া বাজারে পাইকারি সবজির হাট বসে না। ফলে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া গুণে চাষিদের খাজুরা ও সীমাখালী হাটে কৃষিপণ্য বিক্রি করতে যেতে হয়।
বেতালপাড়া সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিনয় বিশ্বাস বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা খারাপ হওয়ায় স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিনদিন কমে আসছে। ইতিমধ্যে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের অন্য স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন।
জহুরপুর ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আমিন উদ্দীন বলেন, ‘সাবেক চেয়ারম্যান দিলু পাটোয়ারী কয়েকবার রাস্তাটির খানাখন্দ মেরামত করেছেন। তবে সামান্য বৃষ্টি হলেই মাটির সাথে রাস্তার ইট পানিতে ধুয়ে চলে যায়।’
জানতে চাইলে মেসার্স শরিফুল ইসলাম নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক সোহাগ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘লকডাউন জটিলতা ও অর্থ সংকটের কারণে কাজ শুরু করতে দেরি হচ্ছে। নিউজ করেন না, আরেকটু সময় দেন। কথা দিচ্ছি দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু করবো।’
এ ব্যাপারে এলজিইডির বাঘারপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী আবু সুফিয়ান বলেন, ‘দশ ফুটের দু’ কিলোমিটার রাস্তাটি মেরামতের জন্য প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান রাস্তার কাজ শুরু না করে বিভিন্ন টালবাহানা করে আসছে। যে কারণে পুনরায় টেন্ডার আহবান করার প্রস্তুতি চলছে’।

No comments:
Post a Comment