![]() |
| পিলখানা হত্যার পুনঃতদন্ত দ্রুতই : জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী |
ঢাকার পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের সময় ঘটে যাওয়া হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত শিগগিরই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
তিনি বলেন, “বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত হবে, এবং এটি অবশ্যই হতে হবে। তদন্ত দলের আয়োজন দ্রুত করা হবে। অন্যান্য তদন্তের মতো এটি সহজেই সম্পন্ন হবে।” সোমবার সকালে বিজিবি সদর দপ্তর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদরদপ্তরে বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তা সহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করে। বিদ্রোহের পর সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবি রাখা হয়।
বিদ্রোহের বিচার বিজিবির আদালতে হলেও হত্যাকাণ্ডের মামলা সাধারণ আদালতে বিচারের জন্য যায়। এই ঘটনায় দুটি মামলা—হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে—নিবন্ধিত হয়। হত্যার মামলায় খালাস বা সাজা ভোগের পর ৪৬৮ বিডিআর সদস্য মুক্তি আটকে আছেন বিস্ফোরক মামলার কারণে।
২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়, যেখানে ৮৫০ জনের বিচার সম্পন্ন হয়। রায়ে ১৫২ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন এবং ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২৭৮ জন খালাস পান। ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর উচ্চ আদালতে রায় প্রদান করা হলে ১৩৯ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়।
হাই কোর্টের রায়ের আগে ৫৪ জন আসামি মারা যান। হত্যা মামলায় ২২৬ জন আসামি আপিল করেছেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ ৮৩ জন আসামির খালাস এবং সাজা কমানোর রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেছে। এসব আপিল এখন শুনানির অপেক্ষায়।
অন্যদিকে বিস্ফোরক আইনের মামলায় ৮৩৪ জন আসামির বিরুদ্ধে ২০১০ সালে বিচার শুরু হয়, কিন্তু মাঝপথে কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। ক্ষমতার পালাবদলের পর বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনার পুনরায় তদন্তের দাবি উঠছে। পুনঃতদন্তের জন্য কমিশন গঠন হবে কিনা, জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “এটা নিশ্চিত না, কিন্তু কিছু একটা হতে হবে।”

No comments:
Post a Comment